নেদারল্যান্ডসে রোহিঙ্গা বিষয়ক সেমিনার

0
74
নেদারল্যান্ডসে রোহিঙ্গা বিষয়ক সেমিনার
নেদারল্যান্ডসে রোহিঙ্গা বিষয়ক সেমিনার

 

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে ‘মিয়ানমারের নিঃসঙ্গ একজনের আহ্বান’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২০ মার্চ) এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মিয়ানমারের নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী খিন জ উইনসহ বক্তারা এ সমস্যার পেছনে অভিযুক্তদের বিচার করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান।

দ্য হেগের হিউম্যানিটি হাউস নামে পরিচিত একটি জাদুঘর ও থিংক-ট্যাংক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেমিনারে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া বিভাগের প্রধান মিরা উল্ডবারগ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও এনজিওর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচকেরাআলোচকেরাআলোচনায় রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সরকার কর্তৃক বিগত প্রায় এক দশক ধরে পরিকল্পিত নির্যাতন চালাচ্ছে। এর ফলে দশ লাখের ওপর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কীভাবে বাংলাদেশ তা মোকাবিলা করছে তা তিনি তুলে ধরেন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে উদ্ভূত অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তাজনিত, সামাজিক ইত্যাদি সমস্যার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বেলাল মানবতার খাতিরে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ৫ দফাও তিনি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বেলাল এই জাতিগত নিধনযজ্ঞে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যেন সংগঠিত না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেদারল্যান্ডসের (জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি হিসেবে) প্রতি আহ্বান জানান।
উপস্থিতির একাংশউপস্থিতির একাংশআলোচনায় মিরা উল্ডবারগ জানান, নেদারল্যান্ডস রোহিঙ্গা সমস্যাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ সমস্যা নিরসনে অভিযুক্তদের চিহ্নিত এবং তাদের ওপর প্রয়োজনীয় অবরোধ আরোপ ফলপ্রসূ হবে বলে মন্তব্য করেন।
রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সূ চির ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে খিন জ উইন মিয়ানমারের গণতন্ত্রের পথে উত্তরণের সময়ে রাখাইন প্রদেশে সংগঠিত নির্যাতনকে জঘন্যতম জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে মন্তব্য করেন। খিন বলেন ‘রাখাইন’ থেকেই ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে মিয়ানমার জাতীয়তাবাদের প্রতি তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
খিন জ উইন খুব স্বল্পসংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একজন যিনি ন্যায়ের কথা বলছেন। ইতিপূর্বে তিনি রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন এবং বর্তমানে ইয়াঙ্গুন ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘তাম্পাদিপা’–র পরিচালক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here