যানজটের কারণে ফাঁকা থাকে বিমানের আসন

0
68

আসন খালি থাকলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের টিকিট পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ বহুদিনের। তবে তা মানতে নারাজ বিমান কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, যানজটসহ নানা কারণে অনেক যাত্রী সময়মতো ফ্লাইট ধরতে পারেন না। এ ধরনের ছয়টি কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিমানের আসন ফাঁকা থাকে।

আসন ফাঁকা থাকলেও টিকিটের আকাল কেন, তা সরকারি এই বিমান সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ছয়টি কারণ জানিয়েছে বিমান। তবে কমিটি বলেছে, বিমান যেসব কারণ দেখিয়েছে সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিমান বলেছে, বিমানের আসন সংরক্ষণপদ্ধতি পুরোপুরি কম্পিউটারাইজড ও অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত, যাত্রীরা যেখান থেকে খুশি আসন সংরক্ষণের তথ্য জানতে পারেন। তাই আসন অবিক্রীত থাকলেও টিকিট পাওয়া না যাওয়ার অভিযোগ যথাযথ নয়। তবে বিশেষ বিশেষ যৌক্তিক কারণে ভরা মৌসুমেও কিছু আসন খালি নিয়ে বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করে।

বিমানের দাবি, দেশের বাইরের রুটে ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশ বিমান বা অন্য কোনো উড়োজাহাজে ঢাকায় আসেন। আগমনী বিমানের বিলম্বে ঢাকায় পৌঁছার কারণে যাত্রীরা যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে তাঁদের রেখেই বিমান চলে যায়। তাঁদের আসনগুলো ফাঁকা থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নির্দিষ্ট ফ্লাইটের যাত্রীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসেন। রাস্তায় অতিরিক্ত যানজট ও আবহাওয়াজনিত কারণে যাত্রীরা সময়মতো বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে পারেন না। তাঁদের আসন ফাঁকা রেখেই বিমান চলে যায়। এয়ারলাইনসের ভাষায় এ ধরনের যাত্রীকে বলা হয় নো-শো।

আবার কখনো শেষ মুহূর্তে কারিগরি বা আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট উড়োজাহাজ পরিবর্তন করে অপেক্ষাকৃত বেশি আসনের উড়োজাহাজ নিতে হয়। সেখানে অতিরিক্ত আসনগুলো ফাঁকা থাকে। এসব ফাঁকা আসন নিয়েই বিমানকে আকাশে উড়তে হয়।

পারিবারিক প্রয়োজন, ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, ইমিগ্রেশন থেকে অনুমতি না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে টিকিট কেনার পরও অনেক যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন না। অনেক সময় ভিসা কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই যাত্রীরা টিকিট কনফার্ম করে রাখেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় যাত্রা বাতিল করতে হয়। এ ছাড়া যাত্রী নিজে বা পরিবারের অন্য কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হন। তাঁদের আসনগুলো শেষ পর্যন্ত ফাঁকা থাকে।

জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, বিমান যে কারণগুলো দেখিয়েছে, সেগুলো কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। কমিটি বলেছে, কোনো অজুহাত কমিটি শুনতে চায় না। বিমানের আসন ফাঁকা থাকার কোনো কারণ নেই।

বিমান দাবি করছে, আগে অনেকে ভুয়া বুকিং দিয়ে টিকিট ব্লক করে রাখতেন, যে কারণে অনেকে টিকিট পেতেন না। কিন্তু দেখা যেত শেষ পর্যন্ত আসন ফাঁকা থাকছে। তবে এখন আর সেই সুযোগ নেই।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বিমান রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আরএমএস) চলে গেছে। এখন আর এ ধরনের অভিযোগ নেই। ভুয়া বুকিং দেওয়ারও সুযোগ নেই। কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো ধরনের ভুয়া বুকিং চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন এ ধরনের ঘটনা একেবারে শূন্যের কোঠায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here