বান্দরবানের ‘ঝড়’ ভর করল সৌম্যর ব্যাটে!

0
39

বৃহস্পতিবার বিকেএসপিতে কলাবাগানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় ৯টা। ঘণ্টা খানেক পরই তড়িঘড়ি করে ধরতে হলো বান্দরবানের বাস। সৌম্য সরকারের ভ্রমণসঙ্গী তাঁর তিন বন্ধু—মোমতাজুল হাসান শুভ, এনামুল হক ও মুরাদ খান।

পরিকল্পনাটা সৌম্যরই। নিদাহাস ট্রফি খেলার সময়ই বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, শ্রীলঙ্কা সফর শেষে দেশে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে বের হবেন। বাঁ হাতি ওপেনার চেয়েছিলেন সাজেকে যেতে। পরে সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ঠিক হয়, যাবেন বান্দরবনের নীলাচলে। নীলাচলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও এক ভীতিকর অভিজ্ঞতাই হলো সৌম্যদের।
শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ ঝড়। পাহাড়ি অঞ্চলে তীব্র ঝড়ের অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি। সৌম্যর মনে হচ্ছিল, ঝড় যেন তাঁদের রিসোর্টটাই উড়িয়ে নিয়ে যাবে, ‘যে ভয় পেয়েছি! ঘরটর মনে হচ্ছিল উড়িয়ে নিয়ে যাবে! আর ক্ষণে ক্ষণে ভয় ধরানো তক্ষকের ডাক! কী যে ভীতিকর অভিজ্ঞতা। বন্ধুদের বলেছি, আর আসব না বান্দরবান! আমার ঘরের ওপরে, একদম মাথার ওপর তক্ষকটা ডাকত। এমন ডাক আগে কখনো শুনিনি’—সৌম্যর পাওয়া ভয়টা মুঠোফোনের এ প্রান্ত থেকে যেন বোঝা যাচ্ছিল।
বান্দরবনের সেই ঝড়টাই যেন আজ বিকেএসপিতে সৌম্যর ব্যাটে ভর করল! সেদিন তিনি ভয় পেয়েছিলেন, আজ ভয় ধরিয়ে দিলেন প্রতিপক্ষের বোলারদের! ব্রাদার্সের বিপক্ষে অবনমন বাঁচানোর লড়াইয়ে ১২৭ বলে করেছেন ১৫৪ রান। লিস্ট ‘এ’তে সৌম্যর এটাই সর্বোচ্চ। ৯টি চারের বিপরীতে ছক্কাই মেরেছেন ১১টি। ৯০ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটানো সৌম্যর বড় স্বস্তি প্রায় তিন বছর পর পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। যেকোনো ধরনের ক্রিকেটে সবশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছেন ২০১৫ সালের মে মাসে। সৌম্য অবশ্য তিন অঙ্কের দেখা পাওয়াটাকে স্বস্তি বলতে চান না, ‘আজ শুধু চিন্তা ছিল ব্যাটিং কত লম্বা করা যায়। লক্ষ্য ছিল পুরো ৫০ ওভার খেলা। সেটা অবশ্য হয়নি। উইকেটে থেকে নিজের মতো ব্যাটিং করার চেষ্টা করছি। উইকেটে থাকলে নিজের অবস্থাটা ভালো বোঝা যায়। আর লম্বা ইনিংস খেললে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। দেখি এটা সামনে বিসিএলে কতটা কাজে লাগানো যায়।’
তবে সৌম্যর আফসোস, দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি, ‘একটু না অনেক খারাপ লেগেছে, বড় ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারলাম না। আফসোস থেকে গেল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here