
টাঙ্গাইলের সখিপুরের বহুল আলোচিত রাজ্জাক হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১১ বছরেও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের পর সখিপুর পৌর শহরের তালতলা চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই সখিপুর বাজারের ফাহিম সুপার মার্কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাজ্জাককে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। এতে নিহতের পরিবার বছরের পর বছর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিচার বিলম্বের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত মামলার নিষ্পত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— হত্যা মামলার বিচারিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুত রায় ঘোষণা, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
এ সময় নিহতের বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ১১ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি। আমি মৃত্যুর আগে আমার ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তবে মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে আরও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি ও সম্ভাব্য রায়ের বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।