সখীপুরে বিএনপি নেতার আকস্মিক মৃত্যু, বিভিন্ন মহলে রহস্যের গুঞ্জন
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫ ৪৮৩ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল (৫০) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে রহস্যের গুঞ্জন। পুলিশ ও চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত মদপানের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার প্রথমে অভিযোগ করেন পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। পরিবার আবার ময়নাতদন্তের ভিত্তিতেই সত্য উদ্ঘাটন করার দাবি জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে রুবেলের মৃত্যু হয়। এর আগে অসুস্থ (মদপ্য) অবস্থায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলে তার অবস্থার অবনতি দেখা দেয় এবং তাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল সখীপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি কাকড়াজান ইউনিয়নের বড়বাইদপাড়া। তিনি সপরিবারে সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন।
সখীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুবেল মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন। রাত ৩টার দিকে মদপান করে পৌর এলাকায় একটি টেইলার্সের কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। টেইলার্সের মালিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সখীপুর থানার এসআই লিবাস চক্রবর্তী ঘটনাস্থলে যান এবং মাদপ্য অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করেন। অতিরিক্ত মদপানের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ওই রাতে সখীপুর থানা পুলিশ রুবেলকে উদ্ধার করার আগে রুবেলের সাথে কথা হওয়া নৈশ্য প্রহরী শাহালম,পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী হাসান ও ৯৯৯ নম্বরে কল করা রুবেল হাসান বাচ্চু বলেন, রুবেলের আচরণ ছিল উদ্যত। তিনি মদপ্যও ছিলেন।সকলের সাথেই তিনি দুর্ব্যবহার করছিলেন। তবে আগে কখনো তিনি এমন দুর্ব্যবহার করে নাই।
রুবেলের মা রাহেলা পারভীন বলেন, আমার সুস্থ ছেলেটাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। পরে কীভাবে কী হলো কিছুই জানি না। আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
রুবেলের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন দুলাল বলেন, যেহেতু আমরা চোখে কিছু দেখি নাই তাই আমরা কারো নাম বলতে চাই না। ময়নাতদন্তের ভিত্তিতেই আমরা সত্যটা জানতে চাই।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু এবিষয়ে বলেন,দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সহকর্মী রুবেলের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। স্থানীয় একটি মার্কেটের নিচ তলায় তাঁর অফিসে আসার আগে তাঁকে হয়তো কেউ নির্যাতন করেছে এবং নেশা জাতীয় কিছু খাইয়েছে। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আমরা সত্য জানতে চাই।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ড. শামসুল আলম ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সামী জানান, রুবেলের শরীরে বেশ কিছু যখম ছিল।তিনি মদপ্যও ছিলেন। হাসপাতালে আসার পর ভালোই ছিলেন। ওয়াশ দেওয়া শুরু হলেই অবস্থার অবনতি হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রেসার এবং হার্টের অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল রেফার করা হয়। অতিরিক্ত অ্যালকোহলের কারণে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হতে পারে।
এবিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, রুবেলকে মদ্যপ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁর অবস্থা গুরুতর দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা আরো খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠাই। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।এর মধ্যে আমরা তাঁর পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, রুবেলকে উদ্ধারের সময় সখীপুর থানা পুলিশ তার শরীরে বেশ কিছু জখমের চিহ্ন দেখেছে। অসুস্থ (মদপ্য) দেখে চিকিৎসার জন্য তাঁকে উদ্ধারের পর সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।









