প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক নিল সখিপুরের অনয়া
- আপডেট সময় : ০১:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

লোকগীতিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কৃতী শিক্ষার্থী অনয়া সরকার জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ লাভ করেছে। রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) ও সনদ তুলে দেন।
অনয়া সরকার কিশোরগঞ্জের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জাতীয় পর্যায়ে লোকগীতি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে সে দেশের সেরা ক্ষুদে লোকসংগীত শিল্পীর স্বীকৃতি পেয়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ি গ্রামে। সে শংকর সরকার ও তুলি সরকার দম্পতির সন্তান। তার বাবা শংকর সরকার কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত।

মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে শংকর সরকার বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর কারণে আর্থিক সংকটে তার বড় বোন সংগীত শেখার সুযোগ পাননি। সেই অপূর্ণ স্বপ্ন থেকেই পরিবারের সদস্যরা অনয়াকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সংগীতচর্চায় উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী তুলি সরকার ও অনয়ার সংগীত শিক্ষক অশোক কুমার বিশ্বাসের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অনয়ার নিষ্ঠাই আজকের এই অর্জনের মূল ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, “সখিপুরের সন্তান হিসেবে অনয়া জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আমাদের এলাকা ও পরিবারের সম্মান বাড়িয়েছে। সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই, যেন সে ভবিষ্যতেও দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে এবং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”
স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে অনয়ার এই সাফল্য গ্রামীণ লোকসংগীত চর্চায় নতুন প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে সখীপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্যও এটি একটি গৌরবময় অর্জন।









